Monday, February 15, 2016

MS-Word 2013 Tips - Part001


কম্পিউটারের সূচনা

বেশীদিন আগের কথা নয়, যখন মানুষ প্রকৃতির কাছে ছিল অসহায়। তারা বেঁচে থাকতো জঙ্গলের ফলমূল অথবা কাঁচা মাংস খেয়ে। ধীরে ধীরে তারা শক্তির ব্যবহার শিখলো। আগুনের ব্যবহার মানুষের জীবন প্রণালী পাল্টে দিল। দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি বড় ধরনের বিপদের বিরুদ্ধে আগুনই ছিল প্রধান অস্ত্র। আগুনই সভ্যতার চাকা ঘুরালো। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ এসে ঘটিয়ে দিল আমূল পরিবর্তন।

এখনকার দিন কম্পিউটারের দিন অর্থাৎ ডিজিটাল লাইফ। এটি ব্যবহৃত হচ্ছে- অফিসে, ব্যবসা-বাণিজ্যে, হাসপাতাল, পুলিশ ষ্টেশন, মহাকাশ ষ্টেশনসহ সকল ক্ষেত্রে। যোগাযোগ রক্ষা, সময় গণনা, বিনোদনসহ সকলক্ষেত্রে রয়েছে এর ব্যবহার। চলুন মাইক্রোসফ্ট ওয়ার্ড সম্বন্ধে আলোচনার আগে খুব সংক্ষেপে আনুসাঙ্গিক বিষয় নিয়ে সামান্য আলোচনা করা যাক।

কম্পিউটার (Computer) হলো আধুনিক বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিস্কার। এটা হচ্ছে বিশেষ ধরনের একটি ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র, যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজে এবং স্বল্প সময়ে প্রচুর ডাটা সম্বলিত বড় গাণিতিক (Mathematical) হিসাবসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সমাধান করতে পারেন। যদিও কম্পিউটার আবিস্কার বেশী দিনের নয় তবুও কম্পিউটার বর্তমানে আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে।

নিত্যদিনের ব্যবহার করা আপনার ডিজিটাল ঘড়িটি, হিসাব নিকাশের জন্য ক্যালকুলেটর, নাস্তা গরম করার জন্য ডিজিটাল ওভেন, সংযোগ রক্ষার্থে ডিজিটাল টেলিফোন, ডিজিটাল ক্যামেরা ইত্যাদি খেলনাসহ সব ধরনের ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রই কম্পিউটারের অংশ বিশেষ বা কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরী করা।

কম্পিউটারের আবিস্কার
চালর্স ব্যাবেজ নামে একজন ইংরেজ গণিতবিদ ১৮৩০ সালে প্রথম এনালগ কম্পিউটার আবিস্কার করেন। এরপর হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘হাউয়ার্ড একিন’ একটি ম্যাকানিক্যাল কম্পিউটার তৈরী করেন। পরবর্তীতে ডিজিটাল কম্পিউটার আবিস্কৃত হয় যা ম্যাকানিক্যাল কম্পিউটারের থেকে ২০০ গুন গতি সম্পন্ন এবং সেটি ধীরে ধীরে উন্নত হয়ে আজকের কম্পিউটার। লর্ড বায়রণের মেয়ে ‘লেডী এ্যাডা বায়রণ’ পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামটি তৈরী করেন।

কম্পিউটারের কাজ করার পদ্ধতি
কম্পিউটার কাজ করে আই পি ও (I-P-O) সাইকেলের মাধ্যমে। ইহা প্রথমে তথ্য গ্রহণ (Input) করে কী-বোর্ডের মাধ্যমে। সুতরাং কী-বোর্ড একটি ইনপুট ডিভাইস (Input Device)। এরপর তথ্যের (Data) প্রক্রিয়াকরণ (Processing) করে সিপিইউ নামের সিস্টেম ডিভাইসের মাধ্যমে এবং ফলাফল প্রকাশ করে আউটপুট ডিভাইস (Output Device) ভিডিইউ (VDU) এর মাধ্যমে।


সুতরাং ভিডিইউ (Visual Display Unit) বা মনিটর (Monitor) হচ্ছে একটি আউটপুট ডিভাইস (Output Device)
কম্পিউটারের শ্রেণী বা বিভাগ

কাজের দিক থেকে কম্পিউটারকে ২টি ভাগে ভাগ করা যায়।
1.       এনালগ কম্পিউটার: Analog Computer কাজ করে পরিমাপন (Measuring) পদ্ধতিতে। যেমন- বিদ্যুতের তারের ভোল্টেজের ওঠা-নামা, কোন পাইপের ভেতরের বাতাস বা তরল পদার্থের চাপ কম বেশী হওয়া, বাতাসের প্রবাহ ও চাপ পরিবর্তিত হওয়া ইত্যাদি পরিমাপনের ভিত্তিতে এনালগ কম্পিউটার কাজ করে।
2.      ডিজিটাল কম্পিউটার: Digital Computer কাজ করে প্রতিকী সংখ্যার মাধ্যমে প্রাপ্ত Instruction এর মাধ্যমে। বাইনারী কোড অর্থাৎ ভোল্টেজের উপস্থিতি সনাক্ত করে এর মাধ্যমে কাজ করে।
কাজের ক্ষমতা এবং আকারের ভিত্তিতে কম্পিউটার প্রধানত ৪ ভাগে বিভক্ত। যেমন-
Super Computer

সুপার কম্পিউটার হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী, ব্যয়বহুল এবং সবচেয়ে দ্রুতগতি সম্পন্ন কম্পিউটার। ব্যক্তিগত পর্যায়ে এসব কম্পিউটার ব্যবহার হয় না, কেবল সরকারী বা খুব বড় ধরনের প্রতিষ্ঠানে সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
Mainframe Computer
সুপার কম্পিউটারের চেয়ে তুলনামূলক কম শক্তিশালী কম্পিউটার হলো মেইনফ্রেম কম্পিউটার। অফিস-আদালত, বড় বড় শিল্প ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমান ও জটিল তথ্য ব্যবস্থাপনার কাজে মেইনফ্রেম কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।
Mini Computer

মেইনফ্রেম কম্পিউটারের চেয়ে মিনি কম্পিউটারের কাজের ক্ষমতা ও কাজের গতি অপেক্ষাকৃত কম। মেইনফ্রেম কম্পিউটার ও মিনি কম্পিউটারের মধ্যে কাজের ধরন ও প্রক্রিয়াগত দিক থেকে কোন পার্থক্য নাই।
Micro Computer

মাইক্রো কম্পিউটার হচ্ছে ছোট আকারের কম্পিউটার। একজন ব্যক্তি একটি মাত্র কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকেন। অফিস-আদালত, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত প্রয়োজন ইত্যাদি সব ধরনের কাজে মাইক্রো কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে। অর্থাৎ আমরা হর-হামেসা যে কম্পিউটার ব্যবহার করছি এগুলিকেই Micro Computer বলে।
পেন্টিয়াম- ১ থেকে পেন্টিয়াম ৮ পর্যন্ত বর্তমানের জনপ্রিয় IBM কম্পিউটার বা অ্যাপেল ম্যাকিনটোস-এর ম্যাক পাওয়ার পিসি বা G-4 মডেল হচ্ছে জনপ্রিয় মাইক্রো কম্পিউটার। একে পার্সোনাল কম্পিউটার (PC) বা বিজনেস কম্পিউটার (BC)  ও বলা হয়।
PC এর প্রকারভেদ
সাধারণত দুই ধরনের পার্সোনাল কম্পিউটার পাওয়া যায়। একটির নাম ডেক্সটপ (Desktop) এবং অন্যটির  পোর্টেবল (Portable)। ডেক্সটপ টেবিলে রাখা হয় এবং স্থানান্তর যোগ্য নহে। যদি কয়েকটি ডেক্সটপ কম্পিউটার দিয়ে একটি নেটওর্য়াক তৈরী করা হয়, তবে প্রধান কম্পিউটারটিকে সার্ভার বা ডোমেইন বলে এবং অন্যগুলিকে ওর্য়াকষ্টেশন বলে।
পোর্টেবল (Protable) আবার তিন ধরনের-
1.       Laptop: এটাচি কেসের মত দেখতে এবং সাত (৭) থেকে বার (১২) কিলোগ্রাম ওজন হয়ে থাকে। এটা ডেক্সটপের মতই কাজ করে।
2.      Notebooks: এটা দেখতে নোটবুকের মত এবং তিন (৩) থেকে চার (৪) কিলোগ্রাম ওজন হয়ে থাকে।

3.      Palmtop: এটি দেখতে পকেট ক্যালকুলেটরের মত।

হার্ডওয়্যার এবং সফট্ওয়্যার

হার্ডওয়্যার
কম্পিউটারের সকল প্রকার ফিজিক্যাল যন্ত্রাংশকেই বলা হয় হার্ডওয়্যার। টাইপ রাইটারের মতো দেখতে যন্ত্রটিকে বলা হয় কী-বোর্ড, বক্সের মত গঠনকে বলা হয় সি্সটেম ইউনিট, প্রিন্ট করে যে যন্ত্রটি দিয়ে তা হলো প্রিন্টার এবং লেজওয়ালা ইদুঁরের মত দেখতে ছোট একটি ডিভাইসকে বলে মাউস। সুতরাং কম্পিউটারের সমস্ত ফিজিক্যাল যন্ত্রাংশ, যা শক্ত (Hard) এবং দৃশ্যমান (Visible) তাই হার্ডওয়্যার।

সফ্টওয়্যার
শুধুমাত্র হার্ডওয়্যার দিয়ে কম্পিউটার কোন কাজ করতে পারে না। কোনো কাজ করতে পারবে কি, পারবে না- তা জানার জন্য নির্দেশনার প্রয়োজন হয়। আর একগুচ্ছ নির্দেশনাকে বলা হয় প্রোগ্রাম। একটি অথবা অনেকগুলো প্রোগ্রামকে বলা হয় সফ্টওয়্যার। সুতরাং সমস্ত লজিক্যাল নির্দেশনা যা কোমল (Soft) এবং অদৃশ্যমান (Invisible) তাই সফ্টওয়্যার।
সফ্টওয়্যারের প্রকারভেদ

মূলত সফ্টওয়্যার তিনটি ভাগে বিভক্ত-

১. অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম (Application Program)

বিভিন্ন কাজ যেমন- চিঠিপত্র টাইপ করা, বিল তৈরী করা, একাউন্টিং এর হিসেব রাখা, গ্রাফিক্স ডিজাইন করা, অডিও-ভিডিও শোনা ইত্যাদি কাজের জন্য আলাদা আলাদা সফ্টওয়্যার আছে। এর সবগুলোই অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম (Application Program)। এটি আবার দুইভাগে বিভক্ত। যেমন-

ক) ষ্ট্যান্ডার্ড সফ্টওয়্যার (Standard Software) যেমন- লেখালেখির জন্য ওয়ার্ড প্রোসেসিং  প্রোগ্রাম (Microsoft word), হিসাব-নিকাশের জন্য স্প্রেডসিট প্রোগ্রাম (Microsoft Excel), ডাটা এনালাইসিস এবং এন্ট্রির জন্য ডাটাবেজ প্রোগ্রাম যেমন- (Microsoft Access), সাজানো ও নক্সা করার জন্য পেজ মেকআপ প্রোগ্রাম (Adobe PageMaker, Quark Express) প্রচ্ছদ বা ডিজাইনে ব্যবহৃত ইমেজের জন্য ইমেজ এডিটিং প্রোগ্রাম (Adobe Photoshop), ভিডিও এডিটিং এর জন্য ভিডিও এডিটিং প্রোগ্রাম (Adobe Premiere) এনিমেশন ও কার্টুন তৈরীর জন্য এনিমেশন প্রোগ্রাম (Macromedia Flash) ইত্যাদি।

খ) কাষ্টমাইজ সফ্টওয়্যার (Customize) কাষ্টমারের নির্দিষ্ট চাহিদা অনুযায়ী প্রোগ্রামার বা সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা যে সমস্ত সফ্টওয়্যার তৈরী করে থাকেন, সেগুলোই কাষ্টমাইজ সফ্টওয়্যার।


২. কম্পাইলার সফ্টওয়্যার (Compiler Software)

আমরা বাংলা, ইংরেজী, আরবী, হিন্দি, ইত্যাদি সাধারণ ল্যাংগুয়েজ বুঝে থাকি। কম্পিউটার শুধুমাত্র ইলেকট্রনিক্স সিগন্যাল বোঝে, যাকে বলে মেশিন ল্যাংগুয়েজ। কম্পাইলার হচ্ছে এক ধরনের সফ্টওয়্যার যা কম্পিউটার ল্যাংগুয়েজ (সি, বেসিক ইত্যাদি) কে রুপান্তর করে মেশিন ল্যাংগুয়েজ করে। মানুষ আবার মেশিন ল্যাংগুয়েজ না বুঝলেও কম্পিউটার ল্যাংগুয়েজ বোঝে।

যেমন- সি কম্পাইলার সি ল্যাংগুয়েজকে মেশিন ল্যাংগুয়েজে রুপান্তর করে। সুতরাং এটি মানুষ এবং কম্পিউটারের মাঝে দোভাষীয় কাজ করে।
৩. অপারেটিং সিষ্টেম (Operating System)

অ্যাপ্লিকেশন সফ্টওয়্যার এবং কম্পাইলার সফ্টওয়্যার ছাড়া তৃতীয় সফ্টওয়্যার হচ্ছে অপারেটিং সিষ্টেম। অপারেটিং সিষ্টেম (Operating System) ছাড়া কম্পিউটার চলতে পারে না। কম্পিউটার হার্ডওয়্যার একা একা কাজ করতে পারে না। হার্ডওয়্যারকে দিয়ে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামের কাজগুলো করিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করে অপারেটিং সিষ্টেম।   
মাইক্রোসফ্ট উইন্ডোজ
এই মুহুর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিটির নাম নিশ্চয় শুনে থাকবেন- বিল গেট্স। আর বিল গেটসে্র প্রতিষ্ঠা করা, আমেরিকার সবচেয়ে বড় সফ্টওয়্যার তৈরীর কোম্পানিটির নাম Microsoft Corporation
এই মাইক্রোসফ্ট কর্পোরেশন এর তৈরী পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় অপারেটিং সিষ্টেম এর নাম- Microsoft Windows। ১৯৯৫ সালে অপারেটিং সিষ্টেম হিসেবে প্রথম Windows 95 আত্মপ্রকাশ করে। এর আগেও ১৯৮৫ সালে প্রথম উইন্ডোজের জন্ম হয়। ১৯৯০ সালে এর নতুন ভার্সন Windows 3.0 এবং ১৯৯২ সালে Windows 3.1 এবং Windows 3.11 আত্নপ্রকাশ করে। তবে Windows 95 এর আগে এটি অপারেটিং সিষ্টেম আকারে ছিল না। বরং MS-DOS নামের একটি অপারেটিং সিষ্টেমের সাথে চালু করে Interface পরিবর্তন করে কাজ করা হতো।
Windows 95 ধীরে ধীরে আরও উন্নত হয়ে Windows 98, Windows Mellenium (মিলেনিয়াম ভার্সন) এবং Network Administration সহ Windows NT বাজারে এলো। পরবর্তীতে আবারও ২০০০ সালে উইন্ডোজের প্রজন্মগত পরিবর্তন ঘটলো। এক্ষেত্রে Window 98 এবং Windows NT মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে আরও শক্তিশালী অপারেটিং সিষ্টেম Windows 2000 বাজারে এলো। উইন্ডোজের পরের ভার্সন হচ্ছে Windows XP বা Windows 2002, Windows XP 2004 (Long Horn), Windows Vista, Windows-7 বর্তমানে সর্বশেষ ভার্সনটি হচ্ছে Windows – 8
Microsoft Word
Microsoft Word হচ্ছে একটি Word Processing Program ইহা Microsoft অফিসের একটি অংশ। সাধারণত চিঠিপত্র লেখা, থিসিস পেপার তৈরী করা, সাধারণ কম্পোজ ইত্যাদি কাজ করার জন্য Microsoft Word বা MS Word ব্যবহার করা হয়।
বিল গেট্সের সফ্টওয়্যার কোম্পানী আমেরিকার Microsoft Corporation দ্বারা Microsoft Word তৈরী এবং বাজারজাত করা হয়। ১৯৯৫ সালে প্রথম উইন্ডোজ অপারেটিং সিষ্টেম Windows 95 প্রকাশের সাথে সাথে Microsoft Office 95(4.3) প্রকাশিত হয়। Microsoft Office 97 এর Word Processing সফ্টওয়্যারের নাম Microsoft Word 10 বা MS Word 97
মনে রাখবেন- MS Word 97, MS Excel 97, MS Access 97, MS Powerpoint 97, MS Outlook 97, এবং MS Binder 97 এই ৬ টি সফ্টওয়্যারকে এক সাথে MS Office 97 বলে। এভাবে পরবর্তী ভার্সনগুলো MS Word 2000 (MS Office 2000), MS Word XP বা MS Word 2002 (MS Office XP) এবং সবশেষে MS Word 2003 (Office 2003) বা (Office 11) তে অবস্থিত সফ্টওয়্যারগুলো হচ্ছে Word, Excel, Access, Outlook Express এবং Powerpoint ছাড়া আরও দুটি নতুন সফ্টওয়্যার হচ্ছে Microsoft Office Infopath এবং Microsoft Office One Note।  এছাড়াও যথারীতি এতে রয়েছে Front Page, Publisher, Windows Share Point এবং Share Point Portal Server Version 2.0
এই বইতে আমরা MS Word এর সর্বশেষ ভার্সন Word 2007, Word 2010, Word 2013 নিয়ে আলোচনা করবো।

Windows এবং MS Word এর ভার্সন সংক্রান্ত জরুরী বিষয়
Windows হচ্ছে একটি প্লাটফর্ম এবং Word (Office) হচ্ছে যানবাহন। মনে করুন আপনি কোথাও বাসে করে ভ্রমণে যাবেন। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বাস হতে পারে। কোনটা Normal, আবার কোনটা চেয়ার কোচ, অথবা কোনটা AC কোচ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। কিন্তু আপনাকে প্রথমত প্লাটফর্ম বা ষ্টেশনে পৌছাতে হবে। এই ষ্টেশনটি ৯৫ সালে তৈরী সাধারণ গোছের হতে পারে। আবার ২০০০ সালে তৈরী আরও একটি উন্নত হতে পারে অথবা সর্বাধিক সুবিধা সম্বলিত ২০০৪ সালে তৈরী হতে পারে।
Windows হচ্ছে এক্ষেত্রে প্লাটফর্ম বা ষ্টেশনের মত এবং প্রতিটি ষ্টেশন থেকেই বিভিন্ন ধরনের বাসে অর্থাৎ Normal থেকে AC কোচসহ যে কোন ধরনের কোচে যাওয়ার ব্যবস্থা আছে। মনে রাখবেন MS Word হচ্ছে আপনার যানবাহন। সুতরাং Windows XP (Service Pack 3), Windows 7, Windows 8 অপারেটিং সিষ্টেমে নির্দিধায় Word 2007/2010/2013 পযর্ন্ত চালানো যাবে।
Windows শুরু করা
প্রথমে আপনার সামনের ডেস্কটপ কম্পিউটারটি সম্বন্ধে সামান্য আলোকপাত করা যাক। ধরে নিচ্ছি Laptop বা Notbook বাদে আপনার টেবিলে রক্ষিত Desktop কম্পিউটারে আপনি কাজ করছেন এবং এটি Core I গ্রুপের যে কোন কম্পিউটার হতে পারে।
Windows শুরু করার জন্য Step by Step নিচের কমান্ডগুলো প্রয়োগ করুন।
1.       কম্পিউটারের সমস্ত ডিভাইসের কানেকশন ঠিক আছে নিশ্চিত হয়ে নিন এবং ইলেকট্রিক সুইজ বোর্ড (বা UPS বা IPS বা Stablizer) এর সুইচ চালু আছে নিশ্চিত হয়ে নিন।
2.      আপনার System Unit (CPU) এবং মনিটরের Power সুইচ On করুন।
3.      শুরু হবে Windows এবং মনিটরে Start Up Logo আসবে।
একটু পরে সামনে আসবে নিচের ছবির মত Windows Screen বা Desktop (Windows 7), Start Screen (Windows 8)। এই স্ক্রীনকে Starting Screen বা Operating Screen বা Platform বা Start up Screenও বলা হয়। Desktop-এ কিছু Icon (ক্ষুদ্র ছবিসহ ছবির নাম যেমন My Computer, Recycle Bin ইত্যাদি) এবং একটি লম্বা ফিতার মত ব্যান্ডসহ নিচে বামদিকে একটি Start বাটন থাকবে।
আইকন

আইকন হচ্ছে যে কোন সফ্টওয়্যারে Logo বা ছোট ছবি সম্বলিত সফ্টওয়্যারের নাম। অনেক সময় দেখা যায় বেশী বেশী ব্যবহৃত প্রোগ্রামের একটি ছোট ছবি বা আইকন (শর্টকাট আইকন) তৈরী করে রাখা হয়। যেমন :



Start বাটন ও Taskbar
আগেই বলেছি উইন্ডোজ শুরু করলে Desktop আসবে এবং আইকনের সাথে সাথে নিচের দিকে একটি বার সহ Start বাটন থাকবে। এই বারটিকে বলে টাক্সবার এবং এটি সবসময় প্রদর্শিত হতে থাকে। এই টাক্সবারেও কিছু আইকন থাকবে। এই আইকন থেকেও সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম চালানো যাবে। যদিও আমরা এখন Start বাটন ব্যবহার করে শুধুমাত্র MS-Word চালনার প্রক্রিয়াটি রপ্ত করবো। MS-Word চালু করার আগে Desktop এর আইকন এবং Taskbar  চেনার পাশাপাশি মাউস এবং মাউস ক্লিক সম্বন্ধেও ধারণা থাকতে হবে।


মাউস পয়েন্টার এবং জলঘড়ি
লক্ষ্য করে থাকবেন Power সুইচ On করার পর Desktop সম্পূর্ণ আসতে কিছুটা সময় লাগে অর্থাৎ প্রথমে Desktop আসলেও অন্যান্য আইকন, Start বাটন এবং টাক্সবারের আইকনগুলো ধীরে ধীরে আসে। এই সময় Desktop-এর মাঝামাঝি একটি উর্ধ্বমুখী সাদা রঙের তীর চিহ্ন দেখা যায়, এটিকে মাউস পয়েন্টার বলে।  মাউস পয়েন্টারের সাথে একটি জলঘড়ি থাকে। যতক্ষন জলঘড়িটি থাকবে, বুঝতে হবে কম্পিউটার পূর্ণ Desktop আনার জন্য আভ্যন্তরীণ কাজ করছে। জলঘড়ি চলে গিয়ে শুধুমাত্র মাউস পয়েন্টার দেখা গেলে বুঝতে হবে কম্পিউটার পরবর্তী কাজের জন্য প্রস্ত্তত।


মাউস এবং মাউস ক্লিক

আগেই বলেছি লম্বা লেজওয়ালা ইদুঁরের মত দেখতে ছোট ডিভাইসটির নাম মাউস। ডেস্কটপ আসার পর এই মাউসটিই প্রথম ব্যবহার করে আমরা MS-Word শুরু করবো। লক্ষ্য করুন মাউসের সামনের দিকে দুই বা তিনটি বাটন আছে। অর্থাৎ সামনের অংশ দুই বা তিনটি আলাদা অংশে বিভক্ত এবং প্রতিটি অংশে আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে ক্লিক করে শব্দ করে এবং সুইচের মত কাজ করে। এর প্রতিটি অংশকেই বাটন বলে। সাধারণত আমরা দুই বাটনযুক্ত মাউস ব্যবহার করি। বামদিকের বাটনকে Left বাটন এবং ডানদিকের বাটনকে Right বাটন বলে। বাটনে চাপ দেওয়াকেই মাউস ক্লিক বলে এবং মনে রাখবেন মাউস ক্লিক বলতে আমরা Left বাটনে ক্লিক করাই বুঝে থাকি। Right বাটনে চাপ দেওয়া বা প্রেস করাকে Right Click বলে।

কোন কোন মাউসে তিনটি বাটন থাকে অর্থাৎ Left এবং Right ছাড়া মাঝে আরও একটি বাটন থাকে। মাউসটি সাধারণত একটি প্যাডের উপর বসানো থাকে। মাউসটিকে ডান/বাম বা উপর/নিচ-এ মুভ করতে থাকলে ডেস্কটপ বা প্রোগ্রামে অবস্থিত মাউস পয়েন্টার (উর্দ্ধমুখী তীর) ডান/বাম বা উপর/নিচ মুভ করতে থাকে। এভাবে মাউস পয়েন্টার কাঙিখত আইকনে নিয়ে ক্লিক (Left ক্লিক) করতে হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে মাউস বাটনকে ডাবল ক্লিক করতে হয়। ডাবল ক্লিক অর্থ খুবই দ্রুত Left বাটনে দুইবার ক্লিক করা। আবার মাউস বাটন ক্লিক করে না ছেড়ে মুভ করাকে ড্রাগ করা বলা হয়। ধীরে ধীরে আমরা ডাবল ক্লিক এবং ড্রাগ করা সম্বন্ধে জানবো। আবারও বলি মাউস ক্লিক করার অর্থ হচ্ছে Left বাটন প্রেস করা।



Microsoft Word শুরু করা

কয়েকটি পদ্ধতিতে MS Word শুরু করা এবং ব্যবহার করা যায়। আমরা মূলত একটি প্রক্রিয়া বিশদ ব্যবহার করবো। পাশাপাশি বিকল্প কমান্ড দেওয়া থাকবে। নতুন ব্যবহারকারীদের যে কোন একটি পদ্ধতি বারবার ব্যবহার করে সফ্টওয়্যারটি রপ্ত করার পর বিকল্প পদ্ধতি অনুশীলন করা ঠিক হবে। MS Word শুরু করার জন্য নিচের Step গুলো একে একে ব্যবহার করুন।

Word 2007, word 2010 word 2013 ভার্সন
Windows XP, (service pack-3) Windows-7 বা Windows-8 যে কোন অপারেটিং সিস্টেম থেকে Word 2007, Word 2010 বা Word 2013 এর যে কোন ভার্সন কে Run করানো যায়। তবে Word এর ভার্সন সন্ধন্দে বলে রাখি Word 2003 বা তার আগের ভার্সনের word থেকে Word 2007 থেকে ইন্টারফেস সম্পূর্ন আলাদা। কাজেই Word 2007 এর আগের ভার্সনের ইউজারদের জন্য Word 2007 বা তার পরের ভার্সন ধরতে একটু অসুবিধা হতেই পারে। যেমন Word 2007এর আগের ভার্সনের ইউজাররা মেনু বা টুল বারের সাথে পরিচিত কিন্তু Word 2007 থেকে মেনু বা টুলবার নাই এখানে সমস্ত কমান্ড Ribon এবং Ribon গ্রুপের মধ্যে অবস্থিত।
আমাদের এই বইটি Word 2007 বা Word 2010 বা সর্বশেষ ভার্সন Word 2013 ভার্সনের জন্য লেখা হয়েছে। প্রথম দিকে আমরা Word 2007, Word 2010 এবং Word 2013 এর উপর  আলাদা আলোচনা করবো

তবে এই ভার্সন গুলির ইন্টারফেস এবং কমান্ড 99.90% একই। কাজেই একটি ভার্সনের সাথে অন্যটির তেমন কোন পার্থক্য নাই। শুধুমাত্র Word 2007 খুললে Ribbon এর উপরে প্রথমে অথাৎ Home, Insert ইত্যদি রিবনের আগে অফিসের চিত্র সম্বলিত গোল Office বাটন থাকে এবং Word 2010Word 2013 তে একই স্থানে চারকোনা File বাটন বা রিবন থাকে ক্লিক করলে কাজ একই হবে। কাজেই যে কোন একটি ভার্সন নিয়ে আলোচনা করলেই অন্য ভার্সন ব্যবহারকারীরাও সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন।
  

1.       (Windows-7) -   প্রথম Mouse পয়েন্টার (উর্ধ্বমুখী তীর) Start বাটনের  উপর  এনে ক্লিক করুন। দেখুন নিচের ছবির মত একটি Pop Up মেনু অর্থাৎ উর্ধ্বমুখী একটি মেনু আসবে, যেখানে নিচ থেকে যথাক্রমে All Programs এবং অন্যান্য সফট্ওয়্যারের নাম অথবা Log off, Turn off Computer, Help and Support, Search, Run, ইত্যাদি লেখা থাকবে।


     Deskop (WindowsXP)        Deskop (Windows 2007)
2.      এরপর Pop Up মেনুর উপরের দিক থেকে All Programs আইকনে Click করুন। আরেকটি Drop Down মেনু অর্থাৎ নিম্নগামী মেনু আসবে। যেখানে অনেক প্রোগ্রামের নাম লেখা থাকবে।
3.      এখান  থেকে Microsoft Office  ফোল্ডারে Click করুন।

4.       এখানেও অনেক প্রোগ্রামের নাম লেখা থাকবে। এখান  থেকে Microsoft Word 2007 বা Microsoft Word 2010  বা Microsoft Word 2013 Click করুন।

  
অথবা
5.      (Windows-8) - আপনি Login করা মাত্র চারকোনা আইকনসহ বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনে সজ্জিত নতুন Windows-8 এর Start স্ক্রীন আপনার সামনে আসবে। এখন Microsoft Word 2007 বা Microsoft Word 2010 বা Microsoft Word 2013 বাটনে ক্লিক করলে এটি শুরু হবে।



কিছুক্ষণের মধ্যে পর্দায় MS-Word ষ্টার্টআপ Logo আসবে এবং শেষে MS Word এর একটি ফাঁকা স্ক্রীন আসবে।




একটি নতুন File/Document নিয়ে কাজ করা
যখনই আপনি Microsoft Word 2007/2010/2013 শুরু করবেন। আপনার সামনে একটি নতুন Blank ডকোমেন্ট আসবে। এ অবস্থায় আপনার সামনে যে Screen দেখতে পাচ্ছেন এটা হলো Microsoft Word এর Screen লক্ষ্য করুন Blank ডকোমেন্টের বামপাশে, উপরের দিকে একটা লম্বা দাগ জ্বলছে আর নিভছে। এটার নাম Inserttion Point (ইনসার্টশন পয়েন্ট) বা কার্সর (cursor)। এখানেই লেখা শুরু করা যায়। উল্লেখ্য কার্সর যেখানেই থাকবে লেখা শুরু করলে সেখান থেকেই লেখা হবে।
MS WORD 2007 এর Screen
 
MS WORD 2010 এর Screen

  

MS WORD 2013 এর Screen
Word 2013 তে সরাসরি screen না এসে Word 2013 Preview বক্সে উইজার্ড আসবে।
 
   এখান থেকে Blank Document উইজার্ডে ক্লিক করলে Word 2013 স্ক্রীন আসবে।


Previous Post                                                                                           Next Post

  বিস্তারিত জানতে নিচের বইটি সংগরহ করে নিন

Book Name: Mastering Microsoft  Word
Writer: Bappi Ashraf
Published By: Gyankosh Prokashani
Amount of Pages: 464
First Publish: October-2004
Last Edition: We've February-2015 edition. Future edition may be existed!
Book Price: BDT 350 (30% Discount)
 The writer of this book has told that he has written this book with the concept of "teach yourself". On the other hand, Web Design is a thing which is interesting to learn. He has also told that the book is full of fan and enjoyment so that a person can learn Web Design by himself by playing with the example projects of this book.  Book's CD Link below... 

 cd

RELATED POST LINKS BELOW ********************************************